ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের পূর্বাভাস

বিশ্বজুড়ে কমতে পারে ইস্পাতের চাহিদা

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বৈশ্বিক বাজারে।

এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের কারণে অপরিশোধিত ইস্পাতের চাহিদা ব্যাপক হারে কমে গেছে। ফলে ২০২৬ সালের জন্য বিশ্বব্যাপী ধাতুটি ব্যবহারের পূর্বাভাস কাটছাঁট করেছে ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশন। খবর রয়টার্স।

সংস্থাটি মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে ইস্পাতের প্রবৃদ্ধি আগের প্রাক্কলনের চেয়ে অনেকটা মন্থর হয়ে পড়বে।

ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের অর্থনীতি কমিটির চেয়ারম্যান আলফোনসো হিদালগো ক্যালসেরাদা জানান, ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী ইস্পাতের চাহিদা ১৭২ কোটি টনে পৌঁছতে পারে, যা আগের তুলনায় মাত্র দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। উল্লেখ্য, গত অক্টোবরে এ প্রবৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৩ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। কয়েক মাসের ব্যবধানে চাহিদার লক্ষ্যমাত্রা ১ শতাংশ কমিয়ে আনা হয়েছে।

ক্যালসেরাদা বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম মধ্যপ্রাচ্যে ইস্পাতের চাহিদা এবার শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে। কিন্তু চলমান সংঘাতে সেখানের চাহিদা রেখায় বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।’

প্রবৃদ্ধি চলতি বছর মন্থর থাকলেও ২০২৭ সালে এ খাত আবার ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা করছে সংস্থাটি। আগামী বছর ধাতুটির চাহিদা ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১৭৬ কোটি টনে পৌঁছতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বের বৃহত্তম ইস্পাত উৎপাদনকারী দেশ হওয়া সত্ত্বেও এ বছর চীনের উৎপাদন ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমতে পারে। আবাসন খাতের সংকট ও নির্মাণ শিল্পের ধীরগতি এর প্রধান কারণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে ২০২৭ সাল নাগাদ চীনের এ পরিস্থিতি স্থিতিশীল পর্যায়ে পৌঁছতে পারে বলে মনে করছে ওয়ার্ল্ড স্টিল। এদিকে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল ইস্পাত বাজার হিসেবে ভারতের অবস্থান অত্যন্ত সুসংহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও